Skip to main content

জয়পুরে জমে উঠেছে সবলা মেলার আসর,ভিড় জমাচ্ছেন আট থেকে আশি

নিজস্ব প্রতিনিধি:হাল্কা শীতের আমেজকে সাথে নিয়ে দুপুর কিমবা পড়ন্ত বিকালে আট থেকে আশি প্রায় সব বয়সের মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন আমতা-২ ব্লকের জয়পুরের রাউতড়া রায়ব্রাদার্স ফুটবল ময়দানে।রায়ব্রাদার্স ময়দানে হাওড়া জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ও আমতা-২ পঞ্চায়েত সমিতির ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে 'হাওড়া জেলা সবলা মেলা ও ক্রেতাসুরক্ষা মেলা-২০১৯'।গত ১১ই ডিসেম্বর মেলার সূচনা করেন মন্ত্রী সাধন পান্ডে।চলবে আগামী ১৭ ই ডিসেম্বর পর্যন্ত।

শিল্পীর নান্দনিক সৃজনশীল ভাবনার পরিস্ফুটন যেমন ঘটেছে সাতদিনব্যাপী মেলার প্রবেশদ্বার কিমবা মঞ্চজুড়ে;তেমনই স্টলজুড়ে অবস্থান করছে বিভিন্ন অনন্যসাধারণ হস্ত শিল্প।কোনোটা পাটের বা কাঠের আবার কোনোটা বা তাঁতের কিমবা উলের তৈরি।অন্যদিকে,কৃষকভাই হাজির করেছেন টাটকা সব্জি;রয়েছে রুই,মৃগেল,কাৎলার মতো জ্যান্ত মাছ।

পাশাপাশি,ফুচকা,ঘুগনি,এগরোল,চাউমিন সহ বিভিন্ন মুখরোচক খাবারের পসরা সাজিয়ে বসেছেন স্থানীয় মানুষ।মুক্তমঞ্চে স্থানীয় বিভিন্ন বিদ্যালয়ের 'কন্যাশ্রী ক্লাব'-এর নাটকের পাশাপাশি,রয়েছে 'কন্যাশ্রী প্রকল্প' ও ক্রেতাসুরক্ষা বিষয়ক বিশেষ আলোচনাসভা।

অনুষ্ঠিত হচ্ছে বাংলার বুক থেকে হারিয়ে যেতে বসা ঘেঁটুগান,হাওড়া জেলার নিজস্ব সংস্কৃতি কালিকাপাতাড়ি নৃত্য,বাউল গান,ফকিরী গান,তর্জা,আদিবাসী নৃত্যের মতো লোকসংস্কৃতির অঙ্গ।এছাড়াও রয়েছে নৃত্যানুষ্ঠান,কবিতা।সাথে সান্ধ্যকালীন মঞ্চ মাতাচ্ছেন রাঘব চট্টোপাধ্যায়,সৈকত মিত্র,পর্ণাভ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো প্রথিতযশা শিল্পীরা।

এই মেলার অন্যতম উদ্যোক্তা আমতা-২ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সুকান্ত পাল জানান,মেলায় বিভিন্ন সরকারি ও স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মোট ৩৮ টি স্টল রয়েছে।জেলার বিভিন্ন প্রান্ত ছাড়াও অন্যান্য জেলা থেকেও শিল্পীরা এখানে পসরা সাজিয়ে নিয়ে এসেছেন বলে সুকান্তবাবু জানান।প্রশাসনের পক্ষ থেকে মেলাপ্রাঙ্গণে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে।দুপুর থেকে রাত অব্ধি অগণিত গ্রামীণ মানুষের উপস্থিতিতে মুখরিত হয়ে উঠছে গ্রামীণ হাওড়ার এই মেলাপ্রাঙ্গণ।

Comments

Popular posts from this blog

এক টুকরো শান্তির নীড়ে চলছে পাঠদান,সবুজের সমারোহে সেজে উঠেছে গ্রামীণ হাওড়ার নাওদা নয়নচন্দ্র বিদ্যাপীঠ

পৃথ্বীশরাজ কুন্তী: নীলসাদা বিল্ডিংগুলি যেন একটুকরো শান্তির নীড়,আর তার মধ্যে প্রাণের স্ফুরণ ঘটাচ্ছে নবপ্রজন্মের তরতাজা প্রাণগুলো।শিক্ষাঙ্গন হোক মুক্তাঙ্গন।শিক্ষার সাথে ওতোপ্রোতোভাবে জড়িত স্বাস্থ্য।তাই শিক্ষাঙ্গনে স্বাস্থ্যকর সবুজ নির্মল পরিবেশ গড়ে তোলা আবশ্যক।আর সেই ভাবনাকে প্রাধান্য দিয়েই বিদ্যালয়কে পড়ুয়াদের কাছে মুক্তাঙ্গন রূপে গড়ে তুলতে একগুচ্ছ অভিনব ভাবনার বাস্তবায়ন ঘটিয়েছে শ্যামপুর-২ ব্লকের নাওদা নয়নচন্দ্র বিদ্যাপীঠ। বিদ্যালয় চত্বরে প্রবেশ করার সময়ই অদ্ভুত সুন্দর ভালোলাগা তৈরি হয়ে যাবে বিদ্যালয়ের পারিপার্শ্বিক নীরব সবুজ পরিবেশে।মুহুর্তের মধ্যেই যে কেউ এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রেমে পরবে তা নির্দ্বিধায় বলাই যায়।না শুধু বিদ্যালয় চত্বর জুড়ে অনন্যসুন্দর পরিবেশ গড়ে তোলাই নয়,সমানতালে বিভিন্ন সৃজনশীল ভাবনার প্রতিফলন ঘটেছে বিদ্যালয় চত্বরজুড়ে।জল সংরক্ষণের ভাবনাকে প্রাধান্য দিয়ে গড়ে উঠেছে বৃষ্টির জল পুনর্ব্যবহারের বিশেষ ব্যবস্থা।  পাশাপাশি,২-৩ ফুট গর্ত করে সেখানে সোকপিট করে তৈরি  হয়েছে ভৌমজল সঞ্চয়ের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা...

সৌহার্দ্যের বার্তা নিয়ে আমতার তাজপুরে শুরু হল সম্প্রীতি উৎসব

নিজস্ব প্রতিনিধি: ভিড় জমিয়েছেন সাইফুল,গোলাম,রমা,তাপসের মতো কয়েকশো শিশু-যুব-নারী।মঞ্চে কখনো উপস্থাপিত হচ্ছে শ্রীখোল,আবার কখনো বেজে উঠছে বাঁশির সুরধ্বনি।এমনই এক সুস্থ সাংস্কৃতিক আবহের মধ্যে দিয়ে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে সংহতির আলিঙ্গনে আবদ্ধ করতে আমতা সম্প্রীতি উৎসব কমিটির উদ্যোগে আমতা-২ ব্লকের তাজপুর এম.এন রায় ইন্সটিটিউশান প্রাঙ্গণে শুরু হল তিনদিনব্যাপী 'আমতা সম্প্রীতি উৎসব'।চলবে ২৯ শে ডিসেম্বর পর্যন্ত।তিনদিনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে আদিবাসী নৃত্য,বিভিন্ন প্রাদেশিক নৃত্য,লোকগীতির আসর,বাংলা সঙ্গীত জগতের একঝাঁক উজ্জ্বল তারকার সঙ্গীতানুষ্ঠান।গানের ডালি নিয়ে উপস্থিত থাকবেন প্রখ্যাত গায়ক সিধু। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক পুলক রায়,প্রখ্যাত চলচ্চিত্র অভিনেতা অভিষেক চ্যাটার্জী,হাওড়া জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি অজয় ভট্টাচার্য,হাওড়া গ্রামীণ জেলা পুলিশ সুপার সৌম্য রায়,রাজ্য স্কুল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৌমিত্র সরকার সহ শিক্ষা ও সংস্কৃতি জগতের বহু বিদগ্ধজন।উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে বিধায়ক পুলক রায় বলেন,কিছু অশুভ শক্তি ভারতের গৌরবময়কে ঐতি...

সবুজ সচেতনতায় অভিনব পদক্ষেপ শ্যামপুরের স্কুলে,পড়ুয়াদের হাতে তুলে দেওয়া হল বিশেষ পেন

নিজস্ব প্রতিনিধি: দূষণের ফলে একদিকে যেমন  গলছে বরফ,বাড়ছে তাপমাত্র,তেমনই রাজধানী দিল্লি ঢেকে যাচ্ছে কুয়াশায়।এই দানবীয় শক্তির মূলে কুঠারাঘাত হানতে না পারলে অনতিদূরেই অপেক্ষা করছে ঘোরতর বিপদ।আর এই দানবীয় শক্তিকে রোধ করতে প্রয়োজন সবুজের।সবুজ রোপণ ও তার সঠিক পরিচর্যার।আর সেই বার্তাই নব প্রজন্মের মধ্যে সঞ্চারিত করতে অভিনব উদ্যোগ নিল শ্যামপুর-২ ব্লকের নাওদা নয়নচন্দ্র বিদ্যাপীঠ।বিদ্যালয় কর্ত্তৃপক্ষের তরফে প্রায় ৩০০ পড়ুয়ার হাতে তুলে দেওয়া হল বিশেষ ধরনের পেন যার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন গাছের বীজ।পেন ব্যবহারের পর তা ফেলে দিলে সেই বীজ মাটিতে পরে গাছ সৃষ্টি হবে বলে জানান বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা সুচন্দ্রিমা সেনগুপ্ত। তিনি আরও জানান,পেনগুলি তৈরি করেছে শ্যামপুরের 'আলোর দিশা' নামক একটি সংস্থা।বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ছাত্রছাত্রীদের হাতে পেন তুলে দেন স্থানীয় অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক অমিত দাস।এর পাশাপাশি খুব শীঘ্রই স্থানীয় বাজারে কাগজের ঠোঙায় বীজ দিয়ে তা পৌঁছে দেওয়া হবে বলেও বিদ্যালয়ের তরফে জানানো হয়েছে।শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত এই অভিনব পদক্ষেপ...